সাধু চেনার উপায়?
তিতিক্ষবঃ কারুণিকাঃ সুহৃদঃ সর্বদেহিনাম্।
অজাতশত্রবঃ শান্তাঃ সাধবঃ সাধুভূষণাঃ ॥
অর্থাৎ, "সাধুর লক্ষণ হচ্ছে তিনি সহনশীল, দয়ালু এবং সমস্ত জীবের সুহৃৎ। তিনি কারও প্রতি শত্রু-ভাবাপন্ন হন না, তিনি শান্ত, তিনি শাস্ত্রের নির্দেশ অনুসারে আচরণ করেন; এবং তিনি সমস্ত সদ্গুণের দ্বারা বিভূষিত।" (ভাঃ ৩/২৫/২১)
সহনশীলতা সাধুর ধর্ম। এই যুগে মানুষেরা আসুরিক মনোভাবাপন্ন হওয়ার ফলে, কেউ ভগবদ্ ভজন করা মাত্রই, বহু মানুষ তার শত্রুতে পরিণত হয়। এমন কি কারও পিতা পর্যন্তও শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠতে পারে, যেমন প্রহ্লাদের পিতা হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হয়েছিল। কিন্তু, শ্রীপ্রহ্লাদ শৈশব থেকেই পিতার অবাধ্য হয়েছিলেন, এবং জীবনে কখনো ভগবদ্ভজন থেকে বিচ্যুত হননি। এটাই যথার্থ সাধুর পরিচয়।
সাধু কৃপালু। জড় জগতে বদ্ধ জীবদের তিনি মুক্তির পথ প্রদর্শন করেন। অনেক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যারা কনিষ্ঠ স্তরের ভক্তকে দেখে উপহাস করে-এ আবার কবে সাধু হল?' কিন্তু পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সাধুর বৈশিষ্ট্য বুঝিয়েছেন এইভাবে-
অপি চেৎ সুদুরাচারো ভজতে মামনন্যভাক্।
সাধুরেব স মন্তব্যঃ সমাগ্যবসিতো হি সঃ ॥
অর্থাৎ, 'সর্বাপেক্ষা দুরাচারী ব্যক্তিও যদি আমার ভজনে একান্তভাবে ব্রতী হয়, তা হলে তাকে সাধু বলে গণ্য করতে হবে, কারণ তার স্বরূপে যে যথাযথভাবে অবস্থান করছে।
(গীতা ৯/৩০)
.jpeg)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন